08/12/2026 মনিরাপুরে তলিয়ে গেল কৃষকের কয়েক শ হেক্টর আমন ধানের খেত
মোঃ শাহ্ জালাল।।
১২ আগস্ট ২০২৬ ১৩:১৮
মোঃ শাহ্ জালাল।। যশোরের মনিরামপুরে ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে গত বুধবার শেষ বিকেলে থেকে। এরপর টানা এক সপ্তাহ রাতদিন ভারী বর্ষণে পানি জমে উপজেলার বিভিন্ন বিল তলিয়ে গেছে। পানিতে ডুবে গেছে শত শত হেক্টর আমনের খেত। ১০ দিন আগে থেকে শুরু হওয়া রোপা আমন খেতে ধানের চারার দেড় ফুট পানির তলে ডুবে গেছে। এসব ধানখেত দেখে মাথায় হাত উঠেছে কৃষকদের।
পানিতে তলিয়ে গেছে পাকা ধানক্ষেত, ওপরের অংশ কেটে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা কৃষকদের। তবে সেক্ষেত্রে আরেক দূর্যোগ বাবুই পাখিতে খেয়ে যাচ্ছে ধান। অপরদিকে প্রতিবারের ন্যায় এবার বন্যায় প্লাবিত দেশের বিভিন্ন অঞ্চল। যশোরের মণিরামপুর উপজেলার কৃষকরা দাঁড়িয়ে আছেন চরম অসহায়ত্বের মুখোমুখি। হোগলাডাঙ্গা, বাহাদুরপুর, হাজিরহাট, নেবুগাতী, কাটাখালি, গোপালপুরসহ উপজেলার ৯৬ এলাকার বহুবিলে ছিল ধানের ক্ষেত। ইরি পরবর্তী রোপন কৃত এই ধান এখন প্রায় পরিপক্ব হতে শুরু করেছে। এমন সময় অতিবৃষ্টির কারণে হরিহর ও মুক্তেশ্বরী নদীর বুক চিরে হঠাৎ করেই নেমে এসেছে আগাম বন্যা। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে বিলাঞ্চলে ঢুকে পড়েছে পানি। মুহূর্তেই পানির নিচে তলিয়ে গেছে সোনালি রঙের পাকা ধানের ক্ষেত।
এলাকার ফসলি জমি এখন জলমগ্ন। শত শত হেক্টর জমির পাকা ধান পানির নিচে। কৃষকের দীর্ঘদিনের ঘাম, স্বপ্ন আর অপেক্ষার ফসল আজ ভাসছে সেই পানির স্রোতে। অপরদিকে হাজার হাজার একর ঘের ভেসে গেছে কৃষকের। ফলে শ্রমিক সংকট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে কৃষকের দুর্দশা। দিনে ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। দূর্বিষহ আবহাওয়ায় বাড়ছে সর্দি কাশি জ্বর ফলে কেউ কেউ এমন দুরূহ পরিবেশে কাজ করতে অনিচ্ছুক।
বাহাদুরপুর গ্রামের কৃষক হরে কৃষ্ণ বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে, আমরা ভাবছিলাম ১৫-২০ দিন পরে ধান কেটে ফেলবো। হঠাৎ বানের পানি আইসা পড়লো। ক্ষেতের মধ্যে এখন কোমর পানি। আমার সব ধান নষ্ট হয়ে গেছে।
হরিদাস কাঠি ইউনিয়নের কৃষক মাধব মন্ডল বলেন, সামনে আসছে শারদীয় উৎসব ভাবছিলাম এবারের ধান বিক্রি করে ছেলেমেয়েদের সঙ্গে হাসিমুখে উৎস পালন করবো কিন্তু সেটা আর হবে বলে মনেহয়না। পাচকাটিয়া গ্রামের রিতাপাড়ে বলেন আমাদের বিলের সমস্ত পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, শ্যামকুড়, হরিদাসকাটি,খানপুর, দূর্বডাঙ্গা, নেহালপুর, ঢাকুরিয়াসহ উপজেলার ৯৬ এলাকার ইউনিয়নগুলোর অনেক জমিতে এখন কোমরসমান পানি। তবে ধারণা করা হচ্ছে মোট উৎপাদনে ৯০ শতাংশ ধান কাচা যার সবটাই নষ্ট হয়ে যাবে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানাযান উপজেলার মোট আবাদি জমির পরিমা ৩৬ হাজার ৮শত। এবারের আগাম বৃষ্টিতে উপজেলার কিছু নিচু জমির ধান ডুবে গেছে। তবে আমাদের এবারে ধান উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ২২৫৮০ হেক্টর, অর্জন হয়েছে ২২৫৮০ হেক্টর। বাকি চাষ চলমান। তবে বন্যায় প্লাবিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আনুমানিক ৩৩০ হেক্টর জমির ধান।
স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দারা জানান, প্রতিবছর স্থানীয় জলাবদ্ধতায় কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব, অনিয়মিত ও ভারী বর্ষণ, নদনদীর নাব্যতা হ্রাস সব মিলে ৯৬ এলাকায় দেখা দিচ্ছে নতুন এক বিপর্যয়।
একজন প্রবীণ কৃষক কালিপদ বিশ্বাস বলেন, ‘বছরের পর বছর আমরা বন্যার সাথে লড়াই করে ধান চাষ করি, কিন্তু এবার যে হঠাৎ এমন পানি আসবে, তা ভাবতেই পারিনি। এত কষ্টে ফলানো ধান চোখের সামনে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, আর আমরা কিছুই করতে পারছি না।’
মণিরামপুর উপজেলার কৃষকরা শুধু নিজেদের পরিবারের খাদ্য জোগান দেন না, দেশের খাদ্যনিরাপত্তাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এই এলাকার কৃষির ওপর নির্ভর করে হাজারো পরিবার। একটি মৌসুমের ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়া মানে শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়, বরং খাদ্যচক্রে বড় এক ধাক্কা। এখন কৃষকরা তাকিয়ে আছেন সরকারের দিকে তাদের দাবি জরুরি সহায়তা, কৃষি যন্ত্রপাতি এবং ভবিষ্যতে এমন আগাম বন্যা মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের