মনিরামপুরে দেড় বছর ধরে অব্যবহৃত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৯ ঘর এখন মাদকসেবীদের অভয়ারণ্য

সমসাময়িক | প্রকাশিত: ১৯ জুন ২০২৬ ০৯:২৮

সমসাময়িক
প্রকাশিত: ১৯ জুন ২০২৬ ০৯:২৮

ছবি- নিউজ প্রতিনিধি।

মনিরামপুর প্রতিনিধি।। ​যশোরের মনিরামপুর উপজেলার রোহিতা ইউনিয়নের সরসকাঠি ও বাগডোব এলাকায় ভূমিহীনদের জন্য নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৯টি ঘর দীর্ঘ দেড় বছর ধরে পড়ে আছে অরক্ষিত অবস্থায়। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও উপকারভোগীদের কাছে ঘরগুলো হস্তান্তর করা হয়নি। ফলে সরকারি এই সম্পদ এখন অবহেলায় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি মাদকসেবীদের নিরাপদ আড্ডায় পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের শেষের দিকে সরসকাঠি মৌজায় সাতটি এবং বাগডোব মৌজায় দুটি ঘরের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। সরকারি বরাদ্দ ও নিয়ম অনুযায়ী ভূমিহীনদের বসবাসের জন্য এগুলো তৈরির পর বিদ্যুতের মিটার সংযোগও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রহস্যজনক কারণে আজ পর্যন্ত তালিকাভুক্ত উপকারভোগীদের কাছে ঘরগুলো বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।

সরেজমিনে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে এক ভয়াবহ চিত্র। দীর্ঘ সময় তালাবদ্ধ থাকায় এবং তদারকির অভাবে সাতটি ঘরের মধ্যে চারটির তালা ভেঙে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। ঘরের ভেতর নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে মাদকসেবনের বিভিন্ন আলামত। অনেক ঘরের টয়লেট ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আবার কিছু ঘরে স্থানীয়রা বিচালি ও জ্বালানি কাঠ রেখে গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করছেন।

​স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বিল্লাল হোসেন জানান, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার ছয় মাস আগেই বিদ্যুতের মিটার স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় ঘরগুলো খালি পড়ে থাকায় সন্ধ্যার পর থেকেই এলাকাটি মা*দকসেবীদের দখলে চলে যায়, যা স্থানীয়দের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দীর্ঘ সময় কেন ঘরগুলো হস্তান্তর করা হয়নি এবং কেন এগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়নি এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন।
​মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সম্রাট হোসেন জানান, ঘরগুলো কেন এতদিন হস্তান্তরিত হয়নি তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি দ্রুত উপকারভোগীদের কাছে ঘরগুলো হস্তান্তরের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। একইসাথে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ানও দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও প্রকল্পটি সচল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ​স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নপূরণে নির্মিত এই প্রকল্পটির সুফল যাতে প্রকৃত ভূমিহীনরা পায় এবং সরকারি সম্পদের অপব্যবহার রোধ হয়, সেজন্য দ্রুত ঘরগুলো সংস্কার করে হস্তান্তরের কোনো বিকল্প নেই।